ক্রিকেট খেলায় বাজে আচরণের তালিকায় শীর্ষে ভারত
ক্রিকেটকে ভদ্রলোকের খেলা বলা হয়ে থাকে। তবে খেলার পরিস্থিতি ও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে কথার যুদ্ধ কখনও যে মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তা ভুলে যান অনেকেই। তাই খেলোয়াড়দের আচরণের লাগাম টেনে ধরতে ১৯৯২ সালে আইসিসি ক্রিকেটিয় আচরবিধি প্রণয়ন করে। মাঠের শৃঙ্খলার দায়িত্ব দেয়া হয় ম্যাচ রেফারিদের হাতে। রেফারিরা চাইলে মৃদু তিরস্কার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ জরিমানা করতে পারেন।
১৯৯২ সাল থেকে ২০১৮ সাল। আচরণবিধির অনেক পরিমার্জন, নতুন নতুন নিয়ম কানুন হয়েছে কিন্তু খেলোয়াড়দের আচরণের কোন পরিবর্তন আসেনি? বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে খেলোয়াড়দের আচরণ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে!
আর খেলোয়াড়দের বাজে আচরণের তালিকায় সবার শীর্ষে ভারতীয়রা। গত ২৪ বছরে ফরম্যাট মিলিয়ে ৭৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে ভারতীয় খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে। আর ভারতীয়দের ম্যাচ প্রতি শৃঙ্খলা ভঙ্গের হার ০.০৭৬৫ শতাংশ। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ২০০৮ সালের ‘মাঙ্কিগেট কেলেঙ্কারি’। স্পিনার হারভজন সিং অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসকে বানর ডেকে পড়েছিলেন রোষানলে। মামলা গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত।এই তালিকায় ভারতের পরেই প্রত্যাশিতভাবে আছে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫৮টি এবং অজিদের বিরুদ্ধে আছে ৫৩টি অভিযোগ। আর এই তিন দেশ যদি একে অপরের মুখোমুখি হয়, তাহলে কি হতে পারে তা অতীতেই দেখা গেছে। খেলার বাইরেও যেন এক অন্য যুদ্ধের আবহ বিস্তার করে মাঠে।
এদিকে মাঠে নিয়ম ভাঙার জন্য অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে ওপরে সৌরভ গাঙ্গুলি। এরপর পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক। এই দুই অধিনায়ক মিলে ১৯টি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। যেখানে সৌরভের দাঁয় ১০টিতে আর ইনজামামের ৯টি। ২০০৫ সালে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজের বিজ্ঞাপনে এক বিলবোর্ডে এই দুই সাবেক অধিনায়কের মারমুখী ছবি জন্ম দিয়েছিল সমালোচনার। ফলশ্রুতিতে সৌরভকে পেতে হয়েছিল ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।
অন্যদিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের তালিকায় চারে আছে বাংলাদেশ! ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকে সব রকম ক্রিকেটে ২৪টি গুরুতর অভিযোগ আছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। ম্যাচপ্রতি টাইগারদের নিয়ম বহির্ভূত আচরণের হার ০.০৫১৫ শতাংশ।তথ্যসূত্র: ইএসপিএন, ক্রিকইনফো।